Skip to content

টনসিলেক্টোমি (টনসিল অপসারণ)

টনসিলেক্টোমি (টনসিল অপসারণ)
Rate this post

টনসিল আমাদের গলার দুই পাশে থাকা ছোট গ্রন্থি, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ। কিন্তু যখন এটি বারবার সংক্রমিত হয় বা বড় হয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা তৈরি করে, তখন অনেক সময় টনসিল অপসারণের (টনসিলেক্টোমি) প্রয়োজন পড়ে। বাংলাদেশের অনেক রোগী এই অপারেশন নিয়ে দ্বিধায় থাকেন—ব্যথা কেমন হবে, খরচ কত, হাসপাতালে কত দিন থাকতে হবে? আসলে, টনসিলেক্টোমি একটি প্রচলিত এবং সাধারণত নিরাপদ অস্ত্রোপচার, তবে এটি সবার জন্য নয়। কখন এটি প্রয়োজনীয়, কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং পুনরুদ্ধারের সময় কী করণীয়—এই বিষয়গুলো নিয়েই নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

Table of Contents

টনসিলেক্টোমি কী এবং কখন প্রয়োজন?

টনসিলেক্টোমি হলো গলার দুই পাশে থাকা টনসিল নামক লসিকা গ্রন্থি দুটো সম্পূর্ণ বা আংশিক অপসারণের অস্ত্রোপচার পদ্ধতি। টনসিলের মূল কাজ হলো ক্ষতিকারক জীবাণু আটকানো, কিন্তু যখন এটি নিজেই বারবার সংক্রমণের শিকার হয়, তখন তা শরীরের জন্য আর উপকারী থাকে না। সাধারণত নিচের শর্তগুলোর এক বা একাধিক থাকলে চিকিৎসক টনসিলেক্টোমির পরামর্শ দিতে পারেন:

  • বারবার টনসিলাইটিস: এক বছরে ৭ বারের বেশি, বা টানা দুই বছর প্রতি বছরে ৫ বারের বেশি, বা টানা তিন বছর প্রতি বছরে ৩ বারের বেশি স্ট্রেপ টনসিলাইটিস হলে।
  • শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা: টনসিল এত বড় হয়ে গেছে যে ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় (অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া)।
  • টনসিলের ফোড়া (পেরিটনসিলার অ্যাবসেস): বারবার ফোড়া হলে বা অ্যান্টিবায়োটিকে না সারে।
  • সন্দেহজনক টিউমার: টনসিলের কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি যা ক্যান্সার বলে সন্দেহ হয়।
  • ঘনঘন অসুস্থতা: টনসিলাইটিসের কারণে স্কুল, অফিস বা কাজ বারবার মিস করতে হয়।

তবে শুধু গলা ব্যথা হলেই টনসিলেক্টোমি করার দরকার নেই—বেশিরভাগ গলা ব্যথা ভাইরাসজনিত এবং নিজে থেকেই সেরে যায়। সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য ইএনটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অপারেশনের আগে প্রস্তুতি ও করণীয়

টনসিলেক্টোমির আগে রোগীকে কিছু পরীক্ষা ও প্রস্তুতি নিতে হয়, যাতে অপারেশন নিরাপদ হয় এবং জটিলতা কমে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো:

  • চিকিৎসকের পরামর্শ: ইএনটি বিশেষজ্ঞ টনসিল পরীক্ষা করে দেখবেন এবং প্রয়োজনে নাকের এন্ডোস্কপি বা স্লিপ স্টাডি করতে পারেন।
  • রক্ত পরীক্ষা: সম্পূর্ণ রক্ত গণনা (সিবিসি), রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা (পিটি, এপিটিটি) এবং সংক্রমণ পরীক্ষা (এইচবিভি, এইচসিভি ইত্যাদি) সাধারণত করা হয়।
  • ইসিজি ও অন্যান্য: বয়স্ক বা হৃদরোগী হলে ইসিজি, বুকের এক্স-রে লাগতে পারে।
  • খালি পেটে থাকা: অ্যানেসথেসিয়ার কারণে সাধারণত অপারেশনের ৬-৮ ঘণ্টা আগে থেকে কিছু খাওয়া-পান নিষেধ।
  • ওষুধ পরিবর্তন: রক্ত পাতলা করার ওষুধ (যেমন অ্যাসপিরিন, ওয়ারফারিন) বা কিছু ভেষজ ওষুধ আগে বন্ধ রাখার প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসককে সব ওষুধের কথা জানান।
  • পরিবার বা সঙ্গীর ব্যবস্থা: অপারেশনের দিন ও পরের কয়েকদিন বাসায় কেউ থাকার ব্যবস্থা করা ভালো, কারণ রোগী দুর্বল থাকতে পারেন।

প্রস্তুতি সম্পর্কে ইএনটি বিশেষজ্ঞ বিস্তারিত নির্দেশনা দেবেন। কোনো কিছু বুঝতে না পারলে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন।

অপারেশনের পদ্ধতি: ঠাণ্ডা বনাম গরম প্রযুক্তি

টনসিলেক্টোমির জন্য কয়েকটি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় দুটি প্রধান কৌশল—ঠাণ্ডা (কোল্ড ডিসেকশন) এবং গরম (হট টেকনিক যেমন ক্যাবলেশন, লেজার, ইলেক্ট্রোকটারি)। নিচের টেবিলে দুটির তুলনা দেওয়া হলো:

ঠাণ্ডা বনাম গরম প্রযুক্তি: একটি তুলনা
বৈশিষ্ট্য কোল্ড টেকনিক (স্ক্যাল্পেল) হট টেকনিক (ক্যাবলেশন/লেজার)
প্রক্রিয়া ধারালো ছুরি (স্ক্যাল্পেল) দিয়ে টনসিল কেটে, রক্তনালী বেঁধে বা কটারি দিয়ে রক্তপাত বন্ধ করা হয় তাপ বা রেডিওফ্রিকোয়েন্সি শক্তি ব্যবহার করে টনসিলের টিস্যু ধ্বংস করে একই সঙ্গে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ
অপারেশন সময় সাধারণত ৩০-৬০ মিনিট প্রায় একই, কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে
রক্তপাতের পরিমাণ অপারেশন চলাকালে কিছু রক্তপাত হয়, অভিজ্ঞ সার্জন হলে নিয়ন্ত্রণযোগ্য সাধারণত কম রক্তপাত, বিশেষ করে ক্যাবলেশনে
অপারেশন পরবর্তী ব্যথা অপেক্ষাকৃত বেশি ব্যথা, প্রথম ৭-১০ দিন তীব্র থাকতে পারে ব্যথা কিছুটা কম হতে পারে, তবে ব্যক্তিভেদে পরিবর্তন
পুনরুদ্ধার সাধারণত ২ সপ্তাহ, পূর্ণ সেরে উঠতে ৩-৪ সপ্তাহ অনেক সময় ১-২ সপ্তাহে স্বাভাবিক গলায় ফেরা যায়
বাংলাদেশে প্রাপ্যতা অনেক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সহজলভ্য শহরের বড় হাসপাতালে (ঢাকা, চট্টগ্রাম) পাওয়া যায়; খরচ বেশি
খরচের প্রভাব তুলনামূলক কম (যন্ত্র খরচ কম) যন্ত্র ও প্রযুক্তির জন্য খরচ বেশি

মনে রাখবেন, পদ্ধতি নির্বাচন নির্ভর করে সার্জনের অভিজ্ঞতা, হাসপাতালের সুবিধা এবং রোগীর অবস্থার উপর। ঠাণ্ডা বা গরম—দুটোতেই সফল অপারেশন সম্ভব।

অপারেশন পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও খাদ্যাভ্যাস

টনসিলেক্টোমির পর পুনরুদ্ধারের সময়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশি রোগীদের জন্য সাধারণ অভিজ্ঞতা ও করণীয় নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • প্রথম ২৪ ঘণ্টা: রোগী হাসপাতালে থাকেন। ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। আইসক্রিম, ঠাণ্ডা পানি, জুস বা দই খেতে দেওয়া হয়—এগুলো গলায় আরাম দেয়।
  • প্রথম সপ্তাহ: ব্যথা সবচেয়ে বেশি থাকে, বিশেষ করে গিলতে গেলে। নরম ও ঠাণ্ডা খাবার (খিচুড়ি, স্যুপ, জেলি, ব্লেন্ডার করা ফল) খেতে হবে। গরম, মসলাযুক্ত, টক, শক্ত বা ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন। প্রচুর পানি পান করুন, যাতে গলা শুকিয়ে না যায়।
  • দ্বিতীয় সপ্তাহ: ব্যথা ধীরে ধীরে কমে। গলার ভেতরে সাদা আবরণ (স্ক্যাব) উঠে গেলে সামান্য রক্ত পড়তে পারে, যা স্বাভাবিক। তবে বেশি রক্তপাত হলে ডাক্তার দেখান।
  • কাজে ফেরা: সাধারণত ৭-১৪ দিনের মধ্যে স্কুল বা অফিসে যাওয়া যায়, তবে ভারী কাজ বা ব্যায়াম ৩-৪ সপ্তাহ এড়িয়ে চলা ভালো।
  • কিছু সাধারণ নির্দেশনা: ধূমপান না করা, জোরে কাশি বা হাঁচি না দেওয়া, পানি অনেকটা না হাসা, এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া চালিয়ে যাওয়া।

পুনরুদ্ধারের সময় ব্যথা স্বাভাবিক, তবে ব্যথার মাত্রা অত্যধিক হলে বা রক্তপাত দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যোগাযোগ করুন।

সম্ভাব্য জটিলতা ও সতর্কতা

যেকোনো অস্ত্রোপচারের মতো টনসিলেক্টোমিতেও কিছু ঝুঁকি থাকে। তবে যথাযথ প্রস্তুতি ও চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চললে জটিলতার হার কম। উল্লেখযোগ্য জটিলতাগুলো:

  • রক্তপাত (হেমারেজ): দু ধরনের হতে পারে—অপারেশনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে (প্রাথমিক) বা ৫-১০ দিন পর যখন স্ক্যাব উঠে যায় (সেকেন্ডারি)। সেকেন্ডারি রক্তপাত বেশি দেখা যায়, তাই বাড়িতে থাকাকালে হঠাৎ করে গলা দিয়ে রক্ত পড়লে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
  • সংক্রমণ: অপারেশন ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হতে পারে। জ্বর, অত্যধিক ব্যথা, বা পুঁজ দেখা দিলে চিকিৎসককে জানান।
  • ডিহাইড্রেশন: গিলতে ব্যথার কারণে অনেক রোগী পানি কম পান করেন, যা ডিহাইড্রেশন বাড়াতে পারে। তাই বাধ্য হয়ে নিয়মিত পানি পান করা জরুরি।
  • অ্যানেসথেসিয়া জনিত জটিলতা: অ্যানেসথেসিয়া থেকে অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে, যদিও তা বিরল।
  • গলা ও কণ্ঠে পরিবর্তন: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থায়ী কোনো পরিবর্তন হয় না, তবে অস্থায়ীভাবে কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হতে পারে।

কখন জরুরি বিভাগে যাবেন: যদি মুখ দিয়ে উল্লেখযোগ্য রক্তপাত হয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, জ্বর ১০১° ফা ছাড়িয়ে যায়, বা ব্যথা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়—তখন দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ছুটুন।

বাংলাদেশে টনসিলেক্টোমির আনুমানিক খরচ

বাংলাদেশে টনসিলেক্টোমির খরচ নির্ভর করে হাসপাতালের ক্যাটাগরি, সার্জনের ফি, ব্যবহৃত প্রযুক্তি (কোল্ড বনাম হট), অ্যানেসথেসিয়া ও ওষুধের উপর। সরকারি হাসপাতালে তুলনামূলকভাবে কম খরচে অপারেশন করা সম্ভব (হাসপাতাল ফি ও সার্জন ফি প্রায় বিনামূল্য বা নামমাত্র), তবে দীর্ঘ অপেক্ষার সময় থাকতে পারে। নিচের টেবিলে প্রাইভেট হাসপাতালের আনুমানিক খরচ দেওয়া হলো:

বাংলাদেশে টনসিলেক্টোমির আনুমানিক খরচ (প্রাইভেট হাসপাতাল)
খরচের উপাদান আনুমানিক মূল্য পরিসর (বিডিটি) মন্তব্য
সার্জনের ফি ১৫,০০০ – ৪০,০০০ টাকা অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত সার্জনের ফি বেশি হয়
অ্যানেসথেসিয়া ফি ১০,০০০ – ২৫,০০০ টাকা বিভিন্ন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ভেদে পরিবর্তন
হাসপাতাল ভর্তি ও নার্সিং খরচ (১-২ দিন) ১০,০০০ – ৩০,০০০ টাকা হাসপাতালের ক্যাটাগরি (জেনারেল/কেবিন) অনুযায়ী
অপারেশন থিয়েটার ও যন্ত্র খরচ ৫,০০০ – ২০,০০০ টাকা হট টেকনিক (লেজার/ক্যাবলেশন) হলে বেশি পড়ে
ওষুধ ও পরীক্ষা ৩,০০০ – ১০,০০০ টাকা প্রি-অপারেটিভ টেস্ট ও পোস্ট-অপারেটিভ ওষুধ
মোট আনুমানিক ৩০,০০০ – ১,৫০,০০০ টাকা সাধারণত কোল্ড টেকনিকে কম, হট টেকনিকে বেশি

উল্লেখিত খরচ পরিবর্তন সাপেক্ষ; চূড়ান্ত খরচ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও চিকিৎসকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন। অনেক সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খরচ নগণ্য (মাত্র কয়েক হাজার টাকা), তবে সেখানে অপেক্ষার তালিকা দীর্ঘ।

বিভাগ অনুযায়ী নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ সার্জন খুঁজুন

কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিজ্ঞ ইএনটি সার্জনের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিচের টেবিলে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ সার্জনদের তালিকা থেকে আপনার কাছের সার্জন খুঁজে নিন:

বিভাগ ডাক্তার খুঁজুন
ঢাকা ঢাকায় নাক-কান-গলা সার্জন বিশেষজ্ঞ
চট্টগ্রাম চট্টগ্রামে ভেরিফাইড নাক-কান-গলা সার্জন ডাক্তার
খুলনা খুলনায় নাক-কান-গলা সার্জন ডাক্তার
রাজশাহী রাজশাহীতে সেরা নাক-কান-গলা সার্জন ডাক্তার
রংপুর রংপুরে নাক-কান-গলা সার্জন ডাক্তার খুঁজুন
সিলেট সিলেটে সেরা নাক-কান-গলা সার্জন ডাক্তার
বরিশাল বরিশালে নাক-কান-গলা সার্জন ডাক্তার খুঁজুন
ময়মনসিংহ ময়মনসিংহে জনপ্রিয় নাক-কান-গলা সার্জন ডাক্তার

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

টনসিল অপসারণের পর কি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়?

বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে টনসিল অপসারণের পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্থায়ীভাবে কমে না। টনসিল শরীরের ইমিউন সিস্টেমের একটি অংশ হলেও, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গলা ও নাকের অন্যান্য টিস্যু (যেমন অ্যাডিনয়েড ও লিম্ফ নোড) সেই কাজ গ্রহণ করে নেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের টনসিলেক্টোমি হয়েছে তাদের সংক্রমণের হার বেড়ে যায়নি, বরং বারবার টনসিলাইটিসের সমস্যা থাকলে অপারেশনের পর তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে অপারেশনের প্রয়োজনীয়তা ও সময় নিয়ে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

টনসিলেক্টোমি কি একইসঙ্গে অ্যাডিনয়েড অপসারণের সঙ্গে করা যায়?

হ্যাঁ, প্রায়ই টনসিল এবং অ্যাডিনয়েড (নাকের পেছনের গ্রন্থি) একই অস্ত্রোপচারে অপসারণ করা হয়, যাকে টনসিলোঅ্যাডিনয়েডেক্টোমি বলে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে, যদি বড় অ্যাডিনয়েড শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা দেয় বা বারবার কানের সংক্রমণ ঘটায়, তাহলে একসঙ্গে অপারেশন করাটাই সাধারণ। আপনার সন্তানের ক্ষেত্রে প্রয়োজন কিনা, তা সার্জন অপারেশন আগেই মূল্যায়ন করে জানিয়ে দেবেন। পৃথকভাবে করলে অপারেশন দুটির ঝুঁকি ও অ্যানেসথেসিয়ার সময় বাড়ে, তাই একসঙ্গে করাই স্বাভাবিক।

টনসিল অপসারণের পর কতদিন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক খাবার খাওয়া যায়?

অপারেশনের পর ৭-১০ দিন গলায় তীব্র ব্যথা থাকে, তাই এই সময়ে নরম ও ঠাণ্ডা খাবার (যেমন জর্দা, পুডিং, ডাবের পানি, আইসক্রিম) খেতে বলা হয়। মশলাদার, আঁশযুক্ত, টক বা গরম খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। সাধারণত ২ সপ্তাহের মধ্যে ব্যথা অনেক কমে যায়, এবং ৩-৪ সপ্তাহে বেশিরভাগ রোগী স্বাভাবিক খাবারে ফিরতে পারেন। তবে সম্পূর্ণ নিরাময়ে ৪-৬ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভালো। ব্যক্তিভেদে তারতম্য হতে পারে, তাই সার্জনের নির্দেশনা মেনে চলুন।

টনসিলেক্টোমির সময় অ্যানেসথেসিয়ার ঝুঁকি কি বেশি?

টনসিলেক্টোমির জন্য সাধারণ অ্যানেসথেসিয়া (পুরো ঘুম) দেওয়া হয়। এটি একটি নিরাপদ এবং নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া, তবে যেকোনো অ্যানেসথেসিয়ারই খুব সামান্য ঝুঁকি থাকে (যেমন এলার্জি বা শ্বাসকষ্ট)। আধুনিক অ্যানেসথেসিয়া প্রযুক্তি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কারণে এই ঝুঁকি অত্যন্ত কম। অপারেশনের আগে অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নেন (যেমন হৃদরোগ, অ্যাজমা বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে সতর্ক থাকেন)। শিশুদের ক্ষেত্রেও পেডিয়াট্রিক অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞরা অভিজ্ঞ। তাই এই অপারেশনকে সাধারণত নিরাপদ বলে মনে করা হয়।

টনসিল অপসারণের পর কি বাচ্চার স্কুলে যেতে কতদিন সময় লাগে?

বেশিরভাগ শিশু অপারেশনের ৭-১০ দিন পর স্কুলে ফিরতে পারে। তবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে (যেমন স্বাভাবিক খাবার খাওয়া ও দৌড়াদৌড়ি) ২-৩ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ব্যথা কমতে এবং রক্তপাতের ঝুঁকি এড়াতে প্রথম সপ্তাহে স্কুল থেকে বিরতি দেওয়া জরুরি। বাচ্চা যদি অনেক ক্লাস মিস করে, তবে বাড়িতে বিকল্প পড়াশোনার ব্যবস্থা রাখা ভালো। স্কুলে ফেরার আগে সার্জনের কাছে চেকআপ করানো উচিত, যাতে তিনি নিশ্চিত হন যে অস্ত্রোপচারস্থান ভালোভাবে শুকিয়ে গেছে।

তথ্যসূত্র

উপরের তথ্যসূত্রগুলো আন্তর্জাতিক জার্নাল, সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা বা স্বীকৃত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া:

Rate this post